”সম্পর্ক রক্ষায় শ্রেষ্ঠ ধর্ম”


 🚫অমুসলিমদের সাথে সম্পর্কের সীমারেখাঃ

🧭মুসলমানরা ইহুদি নাসারা সহ সকল কাফেরদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক পূর্ণ সম্পর্ক রাখতে পারবে না, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সূরা আল ইমরান এর ২৮(28) নাম্বার আয়াতে করা হয়েছে।

তবে মনে রাখতে হবে, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ভদ্রতা ও সদ্ব্যবহার, সন্ধি - উদারতা সহিষ্ণুতা, আদল ইনসাফ এই সব ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। সুতরাং এর হুকুমও ভিন্ন ভিন্ন হবে। সমানভাবে সবগুলো বিষয় নিষেধ করা হয়েছে বিষয়টি এমন নয়। বরং কল্যাণ মনে করলে মুসলিম গোষ্ঠীরা শরীয়ত সম্মতভাবে যেকোনো কাফের সম্প্রদায়ের সাথে সন্ধি ও অঙ্গীকারবদ্ধ হতে পারে।

 কারণ সুবিচার ও ইনসাফ করার হুকুম মুসলিম,কাফের,ইহুদী,নাসারা সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। 


📖এই বিষয়ে সূরা আনফালের ৬১ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে-

"তারা যদি সন্ধির দিকে ঝুঁকে, তুমিও তার দিকে ঝুঁকে পড়, আর আল্লাহর উপর নির্ভর কর, নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"

ভদ্রতা ও সদ্ব্যবহার অথবা উদারতা ও সহিষ্ণুতার আচরণ সেই কাফেরদের জন্য প্রযোজ্য, যারা মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে শত্রুতা প্রদর্শন করে না। যার দ্বারা মুসলমানদের স্বার্থে কোন বিরূপ প্রভাব পড়ে না,এমন অমুসলিমদের সাথে সাধারণ সম্পর্ক রাখা যাবে,এই বিষয়ে অবকাশ রয়েছে। আবারো বলছি,যার দ্বারা মুসলমানদের স্বার্থে কোন বিরূপ প্রভাব পড়ে না,এমন অমুসলিমদের সাথে সাধারণ সম্পর্ক রাখা যাবে। অবশ্যই এমন অমুসলিমদের সাথে যাদের দ্বারা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তির উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই শুধুমাত্র তেমন অমুসলিমদের সাথে সাধারণ সম্পর্ক রাখা যাবে।কী ধরনের সম্পর্ক রাখা যাবে????

""...সাধারণ সম্পর্ক ...""

এখন আমরা নিজেরাই পরস্পরে সাথে আলোচনা করি সাধারণ সম্পর্ক বলতে আসলে কেমন ধরনের সম্পর্ককে বোঝায়???

📖৬০নং সূরা মুমতাহিনার ৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে -

"দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি, আর তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের ক’রে দেয়নি তাদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করতে আর ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেন নি। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।"

কিন্তু সর্ব অবস্থায় মনে রাখতে হবে,বন্ধুত্বপূর্ণ ও পরস্পর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সাহায্যে সহযোগিতার সম্পর্ক কোন অমুসলিমের সাথে কোন মুসলমান রাখার অধিকার রাখে না, এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সূরা আল ইমরানের 28 নম্বর আয়াতে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আমরা পাবো, ইন শা আল্লাহ তায়ালা।

🧭খোলাফায়ে রাশেদীনের মধ্যেও কেউ কেউ এই বিষয়ে অস্বাভাবিক কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন বলে বর্ণিত আছে, এমনটা করার মূল কারণ ছিল- 

পূর্ব সতর্কতা অবলম্বন এবং অধিকতর সাবধানতার উদ্দেশ্য।কারণ, প্রতিটি অমুসলিমদের মধ্যে ধর্মীয় বিভেদ এবং অভ্যন্তরীণ হিংসা ও শত্রুতা থাকা সত্ত্বেও তারা একে অপরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখে।এর মূল কারণ হচ্ছে -

মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রত্যেক কাফেরই একে অন্যের বন্ধু ও সহযোগী হয়ে যেতে পারে যেকোনো মুহূর্তে এবং যেকোন পরিস্থিতিতে। কেননা, সকল কাফেরদের ধর্মই এক এবং ওরা সবাই মিলে এক জাতিস্বরূপ।

📖৫ নং সূরা-আল মায়িদাহ,আয়াত নং ৫১ আয়াতে বলা হয়েছে -

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইয়াহূদ ও নাসারাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ যালিমদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।"

🧭মুসলমানদের স্বার্থে কোন বিরূপ প্রভাব পড়ে না,এমন অমুসলিমদের সাথে সাধারণ সম্পর্ক রাখা যাবে,এই বিষয়ে অবকাশ রয়েছে।এই বিষয়ে আমরা ইতিপূর্বে জানতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ।

কিন্তু যে মুসলমানরা এরকম কারণ ও নিয়ত ছাড়া ইহুদী-নাসারাদের অর্থাৎ কাফেরদের সাথে সম্পর্ক গড়বে বা রাখে তাদের সম্পর্কেই  সূরা-আল মায়িদাহ,আয়াত নং ৫১ আয়াতে বলা হয়েছে।

কাফেরদের সাথে অতিরক্ত মাখামাখি ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এর কারণে আশঙ্কা রয়েছে তাদের ধর্মাবলম্বী হয়ে যাওয়ার নিজের অজান্তেই। যদি তাও না হয়, তবে কুফরের নির্দেশন এবং শির্কের রীতিনীতিতে যেই ঘৃণা ও অসন্তুষ্টির মনোভাব অন্তরে থাকা বাধ্যতামূলক বা উপরিহার্য তাতে শৈথিল্য দেখা দিতে পারে। যদি এমন হয় তবে আমার মুসলিমদের ক্ষেত্রেই উপরে এই আয়াতটি প্রযোজ্য হতে পারে।

📖যে যাকে দুনিয়াতে ভালবাসবে সে পরকালে তার সাথেই থাকবে।(সহীহ বুখারী:৬১৬৮)

📖৩ নং সূরা - আল ইমরান,আয়াত নং ২৮

Allah Subhanahu Wa Ta'ala said:

لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُوْنَ الْكٰفِرِيْنَ اَوْلِيَآءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِيْنَ ۚ وَمَنْ يَّفْعَلْ ذٰلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللّٰهِ فِيْ شَيْءٍ اِلَّاۤ اَنْ تَتَّقُوْا مِنْهُمْ تُقٰٮةً ۗ وَيُحَذِّرُكُمُ اللّٰهُ نَفْسَهٗ ۗ وَاِ لَى اللّٰهِ الْمَصِيْرُ

"মু’মিনগণ যেন মু’মিনগণ ছাড়া কাফিরদের সঙ্গে বন্ধুত্ব না করে, মূলতঃ যে এমন করবে আল্লাহর সাথে তার কোন কিছুরই সম্পর্ক নেই, তবে ব্যতিক্রম হল যদি তোমরা তাদের যুলম হতে আত্মরক্ষার জন্য সতর্কতা অবলম্বন কর। আর আল্লাহ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করছেন এবং আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তন।"

(QS. Ali 'Imran 3: Verse 28)


📖৮নং সূরা আনফালের ৬১ নাম্বার আয়াত

Allah Subhanahu Wa Ta'ala said:

وَاِ نْ جَنَحُوْا لِلسَّلْمِ فَا جْنَحْ لَهَا وَتَوَكَّلْ عَلَى اللّٰهِ ۗ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ

"তারা যদি সন্ধির দিকে ঝুঁকে, তুমিও তার দিকে ঝুঁকে পড়, আর আল্লাহর উপর নির্ভর কর, নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"

(QS. Al-Anfal 8: Verse 61)


📖৬০নং সূরা মুমতাহিনার ৮ নং আয়াত

Allah Subhanahu Wa Ta'ala said:

لَا يَنْهٰٮكُمُ اللّٰهُ عَنِ الَّذِيْنَ لَمْ يُقَا تِلُوْكُمْ فِى الدِّيْنِ وَلَمْ يُخْرِجُوْكُمْ مِّنْ دِيَا رِكُمْ اَنْ تَبَرُّوْهُمْ وَ تُقْسِطُوْۤا اِلَيْهِمْ ۗ اِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِيْنَ

"দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি, আর তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের ক’রে দেয়নি তাদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করতে আর ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেন নি। আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।"

(QS. Al-Mumtahanah 60: Verse 8)


📖 ৫ নং সূরা - আল মায়িদাহ,আয়াত নং:৫১

Allah Subhanahu Wa Ta'ala said:

يٰۤـاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُوْدَ وَا لنَّصٰرٰۤى اَوْلِيَآءَ ۘ بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍ ۗ وَمَنْ يَّتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَاِ نَّهٗ مِنْهُمْ ۗ اِنَّ اللّٰهَ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظّٰلِمِيْنَ

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইয়াহূদ ও নাসারাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ যালিমদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।"

(QS. Al-Ma'idah 5: Verse 51)


📖সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাঃ

কোরআন মাজীদ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন থেকে আমরা সম্পর্কের সমতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা পেতে পারি, ইন শা আল্লাহ।

📌আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে তারা যেন কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা স্থাপন না করে। অতঃপর আল্লাহ পাক ওই লোকদেরকে অনুমতি দেন যারা কোন শহরে কোন সময় অবিশ্বাসীদের অনিষ্ট হতে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে মৌখিক তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখে কিন্তু তাদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা রাখেনা।

( তাফসীর ইবনে কাসির)

আল্লাহ তায়ালা ইসলামের শত্রু ইয়াহুদী ও নাসারাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে মুসলিমদেরকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন তারা কখনো তোমাদের বন্ধু হতে পারেনা, কেননা তোমাদের ধর্মের প্রতি তাদের হিংসা ও শত্রুতা রয়েছে ।তারা নিজেরা একে অপরের বন্ধু।

[৪:১৪৪] আন নিসা

يا أَيُّهَا الَّذينَ آمَنوا لا تَتَّخِذُوا الكافِرينَ أَولِياءَ مِن دونِ المُؤمِنينَ أَتُريدونَ أَن تَجعَلوا لِلَّهِ عَلَيكُم سُلطانًا مُبينًا

বায়ান ফাউন্ডেশন:

হে মুমিনগণ, তোমরা মুমিনগণ ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহর জন্য তোমাদের বিপক্ষে কোন স্পষ্ট দলীল সাব্যস্ত করতে চাও?

        আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন থেকে আমরা পাই যে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সূত্রে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেন মানুষ তার বন্ধুর রীতি-নীতির অনুসারী হয় কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন লক্ষ্য করে সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে। (তিরমিজি ,আহমাদ )

     আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত নবী সাঃ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তুমি মুমিন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গী হবে না এবং তোমার খাদ্য যেন পরহেজগার লোক খায়।

(তিরমিজি ,আহমাদ) 

     সামুরা ইবনু জুনদুর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

কেউ কোন মুশরিকের সাহচর্যে থাকলে এবং তার সাথে বসবাস করলে সে তাদের ওই অংশ যে তাদের মতো।

 (গ্রন্থ সুনান আবু দাউদ হাদিস নম্বর 2787)

      অমুসলিম ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের সাথে মুসলিমদের বন্ধুত্ব বা ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপন হতে পারেনা কিন্তু সহানুভূতি প্রকাশ ,ন্যায় বিচার, সদ্ব্যবহার, আতিথিয়তা ,লেনদেন ইত্যাদি ক্ষেত্রে স্বাভাবিক আচরণ করার নির্দেশ রয়েছে।

     আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে সব কাফের মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করেনি আলোচ্য আয়াতে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করার ,ইনসাফ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে 

( তাফসীর আবু বকর জাকারিয়া)

         রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,প্রতিবেশীর বিষয়ে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমাকে এত উপদেশ দিচ্ছিলেন যে আমি মনে করেছিলাম তিনি হয়তো তাদের ওয়ারিশই বানিয়ে দেবেন ।

(জামে তিরমিজি হাদিস নাম্বার ১৯৪৩ )

    প্রতিবেশী ও আত্মীয়তার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলার এই যে নির্দেশনা তাতে মুসলিম ও মুসলিমদের মাঝে কোন পার্থক্য করা হয়নি ।

      কোন অমুসলিম অসুস্থ হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে যেতেন ।তাদের ঈমানের দাওয়াত দিতেন। তাদের সেবা করতেন ইত্যাদি।

 এ থেকে আমরা মুসলিমদের অমুসলিমদের সাথে কি রকম সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে তার সুস্পষ্ট ধারণা পাই।

Post a Comment

2 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Ok, Go it!